রবিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৮

টিভি

দুপুরের টিএসসি। আমি আর মালাশা মুখোমুখি বসে আছি। বলে রাখা ভালো, আমি মালাশার বিখ্যাত চোখের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি।ওর চোখের মাঝখানে নিজেকে খুঁজছি?

আচ্ছা শোনো।

হুহ, বলো।

তুমি যদি আমার একটা চাওয়া পূরণ করতে পারো, তাহলে আমি তোমাকে বিয়ে করবো।

সত্যি! একটা চাওয়ার কথা বলছো কেন? আমিতো সারাজীবন তোমার চাওয়া পূরণ করার পন করেছি। জীবনে তোমার কোন চাওয়াই অপূর্ণ রাখবো না। বলো কী চাও।

তুমি পারবা না । 

টাকা থাকলে এদেশে বাঘের চোখও পাওয়া যায় । বল তুমি কি চাও ।

রাখ। তাও বলি। আমার একটা আসল বাঘ আর হরিণের কাঁটা মাথা চাই, মমিফিকেশন করা । বাঘের মাথাটা হবে ১০,০০০ বিসি সিনেমার বাঘটার মতো। মুখের সামনে বড়বড় দুটি দাঁতওয়ালা। আর হরিণের চোখদু’টি হবে স্বাভাবিক হরিণের মতো । মানে, মরার আগের যে অতঙ্ক আর ভয় চোখে প্রতিফলিত হয় তা হরিণটার চোখে থাকবে না । মায়াবি চোখ দুটি কাঁটা মাথায় জীবন্ত থেকে আমার দিকে তাকিয়ে থাকবে। স্বচ্ছ সুন্দর দুটি চোখ!

হরিণের চোখ কী তোমার চেখের চেয়েও সুন্দর হবে? তোমার চোখই তো পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর চোখ।    

ফাজলামি করছি না! সিরিয়াসলি বলছি।

ফাজলামি না সিরিয়াসলি জানতে চাচ্ছি।এগুলো দিয়ে কি করবা তুমি?

আমাদের বসার ঘরের দেয়ালে লাগিয়ে রাখব। যাতে সবসময় এদের দেখতে পাই। তুমি জানো, ঘুমানো ছাড়া মানুষ তার জীবনের বড় অংশ ড্রইং রুমে কাঁটায়। 

জানলাম কিন্তু বুঝলাম না । 

জানোতো, আমার সবচেয়ে পছন্দের কাজ হলো টিভি দেখা। কিন্তু ইদানিং আমি টিভি দেখতে পারছি না । টিভি খুললেই দেখি সারা দুনিয়াব্যাপি কিছু মানুষের মুখোশধারি বাঘ নিরিহ হরিণ শিকার করছে। আমি আাঁতকে উঠি। আমি এসব দেখতে পারি না । অনেক কষ্ট হয়। 

তুমি খবর না দেখে মুভি,বাংলা-হিন্দি সিরিয়াল দেখ। খবর না দেখলেইতো হয়। শুধুশুধু কষ্ট পাওয়ার দরকার কী।

সবসময় ফাজলামো করবা না , বুঝেছ। 

বুঝলাম । কিন্তু তোমার ড্রইং রুমে বাঘ আর হরিণের মাথা থাকলে কি হবে, তা বুঝলাম না ?

বড়লোকদের বাসার ড্রইং রুমে গেছো কখনও? ওদের ড্রইং রুমে হরিণের চামড়া বাঁধায় করে টাঙ্গানো থাকে। কেন জান? 

না।

এরা প্রকৃতির অপূর্ব সৃষ্টি  মায়াবী হরিণের মাংশ খায়। তার চামড়া ড্রইং রুমে টাঙ্গিয়ে রাখে নিদর্শন হিসেবে। আর তা প্রতিদিন দেখেদেখে  নিষ্টুর হওয়ার ট্রেনিং নেয়। ফলে কোন সুন্দরের হত্যাকান্ড এদের স্পর্শ করে না।

আমি মালাশার চোখ থেকে চোখ ফিরিয়ে নিলাম । জীবনে হয়তো ঐদিনই প্রথমবার আমি আমার মালাশাকে ভালোভাবে দেখেছিলাম। মনেমনে বলেছি, মনে এতো ব্যাথা পুশে রেখেছ কেন? মালাশা! মানুষের জন্য তোমার এতো মায়া কেন? এজন্যইতো তোমার চোখ এতো মায়াবি। চোখেই হয়তো মানুষের মন প্রতিফলিত হয়।তুমি দেবী, তুমি মানবী, তুমি রহস্যে ঘেরা উপত্যকা। আমি হয়তো কখনও তোমাকে পুরোপুরি বুঝবো না!    

মালাশা তুমি হয়তো জানো না, আমি আর টিভি দেখিনা। এখন টিভি খুললেই অসংখ্য মায়াবী চোখওয়ালা হরিণ আমার দিকে মায়ামায়া চোখকরে তাকিয়ে থাকে। দেখে মনে হয় দেবদূত। আর বাঘগুলো অট্টহেঁসে দাঁতবের করে তেড়ে আসে। তোমার মনের গভীরে জমানো ব্যাথার সাগর, আমার চোখে নোনা জল হয়ে ঝরে। কান্না আমার ভালো লাগেনা ।   
  




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

কবিতা

প্রতিদিন কবিতা লিখতে বসে আমি তোমাকে এঁকে ফেলি।   তোমার ছবি তখন আমার সাথে কথা কয়। তখন মায়াপুরিবেলা ভাসতে আর ভাসাতে নেই কোন মানা,   ...