সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে আমার কিছু বলার নেই । এতটুকুই শুধু বলবো,মহান জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সরকারি চাকরিতে কোটা বিলোপের ঘোষনা দিয়েছিলেন , সেই আনন্দে ছাত্রলীগ আনন্দমিছিল করেছিল ! কেবিনেট সচিবকে প্রধান করে একটা কোটা সংস্কার কমিটি করা হয়েছে।এসব করে সরকার কোটা সংস্কারের দাবির যৌক্তিকতা স্বীকার করে নিয়েছে প্রকারন্তরে । এখন তারা কেন যারা কোট সংস্কার চায় তাদের হাতুড়ি পেটা ও মন্ডুপাত করছে, তা আমার বোধগোম্য নয়।
দেশে ছাত্রসমাজের মধ্যে চলমান অস্থিরতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নেয় কিছু সিদ্ধান্ত এই মহান বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাবেক ছাত্র হিসেবে আমাকে একই সাথে চিন্তিত ও সংঙ্কিত করে তুলেছে। আমার সত্যিই ভাবতে অবাক লাগে ১৯৪৭ সাল পরবর্তী যে বিশ্ববিদ্যালয় পুরো বাংলাদেশকে তার বুকে ধারন করে ৫২’র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত নানা আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম দিয়েছে এবং স্বাধীনতা পরবর্তীতে সকল স্বৈরাচার অপশক্তিকে হাটিয়েছে সেই পূণ্যভূমি এই সময় এসে ছাত্রদের আন্দোলন সংগ্রামকে ভয় পাচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সবার ঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ঠ্যই হলো এ বিশ্ববিদ্যালয় সবার জন্য উন্মুক্ত। এই বিদ্যাপিঠের ছাত্র,শিক্ষক,কর্মকর্তা,কর্মচারী ছাড়াও যেকেউ এই বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীনভাবে বিচরণ করতে পারে। তাছাড়া নানা পথ ও মত কে এর সম্মান জানানোর ক্ষমতা ও তা লালন করা মত অনন্য বৈশিষ্ঠ্য এই বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের অন্যসব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আলাদা করেছে। এমন কী যদি তা প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থায় নিষিদ্ধও হয়। উদাহরণস্বরূপ, সমকামীতার কথায় ধরা যাক । আমাদের সময় আমাদের হলে আমাদের ইয়ারের একটা সমকামী কাপল ছিল । আমারা তাদেরকে হল ছাড়া করেনি । আমরা অন্য সবার মতো তাদের সাথেও পাশাপাশি বসে চা খেয়েছি , ডাইনিং এ পাশাপাশি বসে ভাত খেয়েছি।এই অন্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করার শিক্ষা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ আমাকে আমাদের শিকিয়েছে অন্য কেউ নয় বা অন্য কিছু নয়। দেশের সকল শ্রেণীপোশার মানুষের বিচরণে সবসময় মুখরিত থাকে এই বিদ্যাপিঠ । এমন কী কিছু নেশাগ্রস্থ মানুষকেও এই বিশ্ববিদ্যালয় তার মমতায়পূর্ণ বুকে ঠাঁই দিয়েছে। এতো স্বাধীন ও নিরাপদ বোধ করে আপনি বাংলাদেশের আর কোথাও নেশা করতে পারবেন না ।এ কথা আমি হলপ করে বলতে পারি। এই ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসের ছেলে মেয়েরা যেমন হাতে হাত রেখে চলাফেরা করতে পারে তেমনি পুরান ঢাকা থেকে আসা অনেক ঝাকঝিক পোশাক পরা তরুণীটিও তার প্রিয় মানুষটির সাথে হাতে হাত রেখে স্বাধীনচিত্তে মনের আনন্দে ঘুরাফেরা করতে পারে। যেটা বাংলাদেশের সমাজ বাস্তবতায় বিরল। প্রকৃতপক্ষে সমঅধিকারের একটি মায়বী বটগাছ পোতা আছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে।সেটা প্রতিনিয়ত সমঅধিকার নামক অক্সিজেন ছাড়ে এই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। তাইতো পাকিস্থান থেকে আজকের বাংলাদেশ সবসময় এই ক্যাম্পাস থেকে সমঅধিকারের দাবি ধ্বনিত হয়।
জাতীয় তীর্থস্থান এই বিদ্যাপিঠঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, এটা বাংলাদেশ তথা বাঙ্গালীর স্বাধীনতা রক্ষার সর্বোচ্চ রক্ষাকবচ থেকে শুরু করে এ দেশের কোটি মানুষের দাবি,আশা- আকাঙ্খা, উৎসব,সুখানুভূতি প্রকাশের সর্বোচ্চ তীর্থস্থান । সকল গণদাবি আদায়ের লীলাভূমি এই বিশ্ববিদ্যালয়। এখন পর্যন্ত যে কেউ বা যে কোন শ্রেণীপেশার মানুষ তাদের দাবি আদায়ের জন্য ধরনা দিতে আসে এখানেই। বাংলাদেশে কোন বিষয়ই জাতীয় বিষয়ে পরিণত হয় না যতক্ষন পর্যন্ত না সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রিক্ত হয়। পহেলা বৈশাখে পালিত মঙ্গল শোভাযাত্রার কথাই বলা যাক, যশোরে প্রথম শুরু হওয়া মঙ্গল শোভাযাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন থেকে পালিত হওয়া শুরু করেছে তখন থেকেই তা বাঙ্গালীর জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে।
এই বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের হৃদয়ঃ
বাংলাদেশের প্রয়োজনে,আনন্দ-বেদনায় সবার আগে সাড়া দেয় এই বিদ্যাপিঠ। আর্তমানবতার সেবাই রক্তদানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরা অনন্য নজির স্থাপন করেছে এবং রক্তদানকে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিয়েছে। দেশে যখনই কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দেয়ে সবার আগে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাই ছুটে যায়। আবার বাংলাদেশ যখন ক্রিকেট খেলায় জেতে তখন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসহ সবাই এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটে আসে অনন্দ প্রকাশ করতে আর যারা আসতে পারে না তারা অন্তত টিভির পর্দায় একবার হলেও চোখ রাখে টিএসসি এলাকায় কী হচ্ছে তা দেখার জন্য । এখন প্রশ্ন হলো, এখন যদি এমন জাতীয় আনন্দের উপলক্ষ্য আসে তবে বাংলাদেশের পতাকা হাতে মোটরবাইক চালিয়ে কিংবা পায়ে হেঁটে আসা, বাংলাদেশের আনন্দ বুকে ধারন করা যুবকটি প্রক্টরের অনুমতির জন্য অপেক্ষা করবে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঢুকার জন্য ?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন সংগ্রাম ও বহিরাগতঃ
এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন আন্দোলন সংগ্রাম শুরু হলে বহিরাগতরা হলো অবধারিত অনুষঙ্গ। এ বিষয়ে যাদের কোন প্রকার সন্দেহ আছে তরা একবার মহান ভাষা আন্দোলনের শহীদদে সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করবেন,তাহলে বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে যাবে । তাঁদের কজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আর কজন বহিরাগত? শুধু ৫২’ র ভাষা আন্দেলন নয় এর পরবর্তী যতগুলো আন্দোলন হয়েছে এবং সর্বশেষ এক এগারর মইন উদ্দীন-ফকরুদ্দীন সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে বহিরাগতরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের পাশাপাশি ছিল, ইতিহাস তার সাক্ষি। মইন উদ্দীন-ফকরুদ্দীন সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে আমি সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছি । স্যার এ এফ রাহমান ছাত্র হিসেবে নীলক্ষেত পয়েন্টে এখন যেখানে “মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণ” আমরা আন্দোলন করেছি। আমরা দেখেছি আমাদের সাথে যখন বহিরাগতরা যুক্ত হলো তখন পুলিশের সাথে চলমান সংঘর্ষ ভাওলেন্ট রূপ ধারণ করল। পুলিশের সাজোয়া যানে পেট্রোলবোমা আমাদের হলের কেউ মারেনি । এর কিভাবে আমাদের সাথে যুক্ত হয়েছিল এ ব্যাপারে আমার মতো হলের সাধারণ ছাত্ররা কেউ কিছু বলতে পারবে না । হলের তৎকালীন ছাত্রনেতারা বলতে পারবে হয়তো ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট :“মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণ”ঃ
ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়টা কোন দিকে ? বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে স্যার এ এফ রাহমান হলে থাকার সুবাদে এই হলের সামনে দাঁড়িয়ে প্রশ্নটির মুখোমুখি হয়েছি অসংখ্যবার। আমাদের সময় তখন নীলক্ষেতের দিকে গেট নির্মিত হয়নি । জীবনে প্রথমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে আমার মনেও এই একই প্রশ্ন জেগেছিল। প্রায় দেখা যেত প্রশ্নকারী মহসীন হলসহ কোন না কোন হলে তার আত্মীয় বা এলাকার কোন ছাত্রর সাথে দেখা করতে এসেছে।
আমরা যখন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তী হয় তখন স্যারেরা প্রায় একটা কথা বলতেন, প্রিয় ছাত্ররা তোমরা যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র হবার গৌরভ অর্জন করেছ তার নির্দিষ্ট কোন গেট নেয়। তার মানে এখানে যে কেউ যে কোন স্থান দিয়ে প্রবেশ করে জ্ঞান অর্জন করতে পারে । আমরাও ছাত্র জীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালযের গেট না থাকা নিয়ে গর্ব করতাম । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে চলমান চক্রান্তের অংশ হিসেবে স্যার এ এফ রাহমান হলের পূর্ব পার্শ্বে নীলক্ষেতের দিকে গেট তৈরী করা হয়েছে। এই গেটের আবার কেতাবী নাম “মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণ” । তবে এখানে বলে রাখি , পৃথিবীর সমস্ত ক্ষমতাবান কর্তাব্যক্তিরা যা বলেন ও করেন,মিন করেন তার উল্টোটা ।
যেমন,এই গেটের কথায় ধরা যাক স্যার এ এফ রাহমান হলের সাবেক ছাত্র হিসেবে এবং এক-এগারর মইন উদ্দীন-ফকরুদ্দীন সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পরি এই পয়েন্টটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ । আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢোকার আর বাকী যে ৭টি পথ আছে সেগুলোতেও অতিতাড়াতাড়ি গেট নির্মিত হবে । আমার বিশ্বাস চলমান মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে গেট ও প্রাচীর দিয়ে ঘিরে ফেলার কাজটি সম্পন্ন করা হবে । এবং বাকী সাতটি গেটের ও এরকম কেতাবী নাম হবে। এবং এসব গেটের নাম রাখার জন্য অনলাইনে প্রতিযোগিতারও আযোজন হতে পারে। বিশেষ করে শাহবাগ মোড়ে যে গেট নির্মিত হবে তার নামকরণ নিয়ে পাল্টাপাল্টি আন্দোলনও হতে পারে। এবং এসবই করা হবে বাংলাদেশের মুক্তি ও গণতন্ত্রকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে। যেটার ঈঙ্গিত প্রথম গেটের নামকরনের মধ্যে দেওয়া হয়েছে।
এরপর এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যখনই কোন আন্দোলন সংগ্রাম শুরু হবে তখন এসব কেতাবী নামধারী গেটগুলোয় তালা মেরে সামনে সাজোয় গাড়ী, জলকামান রেখে সহজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলন সংগ্রামকে নিয়ন্ত্রন করা যাবে। নিয়ন্ত্রিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হবে নিয়ন্ত্রিত বাংলাদেশের সংক্ষিপ্ত রূপ। ইতমধ্যে সোহরাওয়ার্দী উদ্দানকে প্রাচীর দিয়ে ঘিরে ফেলে অর্ধেক কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে চলমান ষড়যন্ত্রঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরীর বইগুলো ছাত্ররা যাতে পড়তে না পারে সে জন্য অনেক আগেই তালাবদ্ধ করে ফেলা হয়েছে । এখন চলছে বাকী কাজটুকু । চলমান ষড়যন্ত্রের দুটা দিক আছে-
প্রথমতঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে পরিকল্পিতভাবে সাধারণ জনমনে এক ধরনের ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরী করা।
এর অংশ হিসেবে ক্যাম্পাসে এখন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়ে একসাথে বসে থাকলে কিংবা এক রিক্সাই চলাফেরা করলে হামলার শিকার হচ্ছে। ক্যাম্পাসে সাবেক ছাত্র,শিক্ষক থেকে শুরু করে কেউই আক্রান্ত হতে বাদ যাচ্ছে না । এই সব করা হচ্ছে যাতে অন্যরা এমনিতেই ভয় পায়। টিএসটি ও সোহরাওয়র্দী উদ্দান কেন্দ্রীক যে আড্ড তার পরিসর দিনদিন ছোট করে আনা হচ্ছে।এবছর পহেলা বৈশাখে প্রাণের ক্যাম্পাসে গিয়ে বৃষ্টির মুখে পড়ে টিএসসিতে আশ্রয় নিতে গিয়ে দেখি সেখানে তালা মারা! তারপর দেখি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চারিদিকে গেট তৈরীর হিড়িক পড়েছে । বৃষ্টির মধ্যে বাচ্চা নিয়ে শেষ পর্যন্ত আমার হল স্যার এ এফ রাহমান হলে গিয়ে আশ্রয় নিয় । বৃষ্টির মধ্যে হাঁটতে হাঁটতে হলের যাওয়ার পথে আমরা বারবার একে অপরের মুখের দিকে চাওয়া চাওয়ি করেছি । এটা কী আমাদের ক্যাম্পাস ? বৃষ্টির মধ্যে মানুষকে আশ্রয় দিতে পারে না ?
দ্বিতীয়তঃ এই বিশ্ববিদ্যালয় কে এদেশের রাজনীতিবীদদের থেকে বিশেষ করে মূলধারার রাজনীতিবিদদের থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা। যাতে পর্দার আড়াল থেকে ক্ষমতায় এসে দীর্ঘদিন ক্ষমতার মসনদে থাকা যায়।
এর লক্ষ্যণ দিন দিন স্পষ্ট হচ্ছে। আমার সঙ্কার জায়গা ঠিক এখানে । ছাত্র থাকাকালীন এক এগারর মইন উদ্দীন-ফকরুদ্দীন সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় দেখেছি বর্তমান উপ-উপচার্য আমার প্রিয় শিক্ষক ড.মোহাম্মদ সামাদ(কবি সামাদ স্যার),তিনি কত শক্ত হাতে সরকারের নানা গোয়েন্দা সংস্থাকে সামলেছেন। স্যার আমাদের ক্লাসে মাঝে মাঝে বিশেষ একটা গোয়েন্দা সংস্থার কর্তাব্যক্তিদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে করা প্রশ্ন সম্পর্কে বলতেন, গাধারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে এই সামান্য জ্ঞানটুকু রাখেনা । আমরা শুনে মজা পেতাম । তবে এখন বুঝছি, তারা ঐ সময় সঠিক জ্ঞানটুকুই নিয়ে গেছে। আর সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য স্যারদের দিয়েই তারা তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করাচ্ছে। বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্ব যেভাবে ছাত্রদের বর্তমান ও ভবিষ্যত রুজি নিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল ও অবজ্ঞা করছে তাতে তারা যে তরুন প্রজন্ম বিশেষ করে সাধারণ ছাত্রসমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদের সুযোগ সুবিধা বাড়িয়ে সরকার এমনিই দেশের সব শ্রেণীপেশার মানুষের বিরাগভাজন হয়ে বসে আছে। পরশ্রীকাতরতা যে বাঙ্গালীর বড় মূদ্রাদোষ তা এই সরকারের মনে হয় মনে নেই। ভুলোমনের কারনে দেশে যে একধরনের অস্থিরতা কাজ করছে তা সরকার খেয়াল করছে না । আর এই সুযোগে,“মাইনাস টু”- একটা মূলদ না অমূলদ সংখ্যা ? এই অংক করতে যারা একদিন ব্যর্থ হয়েছিল তারা অংক সাবজেক্টটাই জাদুঘর পাঠাবার ব্যবস্থা করছে সংগোপনে। বাংলাদেশে যেভাবে পাকিস্থানি মডেলে “আর্মি অর্থনীতি” কে বাড়তে দেওয়া হয়েছে এবং স্বৈরাচার তাড়ানোর ভ্যানগার্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে পরিকল্পিতভাবে তাদের দ্বারাই বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হচ্ছে ও এই বিশ্ববিদ্যালয়কে গেট ও প্রচীর দিয়ে যেভাবে ঘিরে ফেলা হচ্ছে,তাতে আমার ধারণা বাংলাদেশ মিশরীয় পরিণতির দিকে এগুচ্ছে দিন দিন । তবে হাতে এখনও সময় আছে কিন্তু তা বেশী না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কখনও ঘুমায় না ঃ
একটা জনিসের চরিত্র বদলে যওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কসকো সাবানের পরিণতি নিয়ে একটা স্টেটাস বেশ ঘুরাফেরা করে ভিন্ন ভিন্ন জনের ওয়ালে । “কসকো এক সময়ের বিউটি সোপ এখন টয়লেট সোপ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।” এখানে বলে রাখি যারা ভাবছেন চারিদিকে দেয়াল আর বড়বড় গেট নির্মান করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চরিত্র বদলে ফেলা যাবে, তারা দিবা স্বপ্ন দেখছেন । তারা বোধ হয় জানেন না,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হলো দেশের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় সেটা রাতদিন ২৪ ঘন্টা জেগে থাকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটা বিশ্ববিদ্যালয় নয়,এটা একটা একটুকরো আকাঙ্খিত বাংলাদেশ। সারা বাংলাদেশকে বুকে ধারণ করে এই বিশ্ববিদ্যালয় কখনও ঘুমায় না ।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন